Total Pageviews

Saturday, 8 September 2012

বেহালা হত্যা:'খুনি একজনই'


বিকেল থেকে সন্ধের মধ্যেই বেহালায় ঘটেছে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড৷ খুনি একাধিক হলেও ডানহাতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে চারজনের গলা কেটেছে একজনই৷ তার আগে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে মাথায়৷ ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে৷ এই  হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে ওই বাড়ির এক আয়া সহ দু’জনকে আটক করেছে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ৷ ধৃতরা হলেন সন্ধ্যা গোস্বামী ও শঙ্কর সিংহ৷ পুরনো কোনও শত্রুতা বা সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরেই  এই খুন কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ৷ 

ঘটনার তদন্তে শুক্রবার এলাকায় আসেন লালবাজারের গোয়েন্দারা৷ ডিসি ডিডি স্পেশাল মুরলীধর এবং হোমিসাইড ও ডাকাতি দমন শাখার অফিসাররা বাড়ির চারপাশে তল্লাশি চালান৷ কিন্তু রহস্যভেদে কিছুই  পাওয়া যায়নি  বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷ মেলেনি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও৷ 
ঠাকুরপুকুরে বীরেন রায় রোড পশ্চিমের এক বাড়িতে কর্ত্রী-সহ তিন মহিলা এবং এক ব্যবসায়ীর গলার নলি কাটা মৃতদেহ পাওয়া যায় বৃহস্পতিবার রাতে। ওই তিন মহিলার মধ্যে রয়েছেন ৮০ বছরের গৃহকর্ত্রী গৌরী ভট্টাচার্য। খুন হয়েছেন গৌরীদেবীর ব্যবসায়ী ছেলে দীপক (৪০)-ও। নিহত অন্য দুই মহিলা হলেন ওই বাড়ির পরিচারিকা অণিমা মণ্ডল (২৮) এবং গৌরীদেবীর রাতের শিফটের আয়া মিনু বিশ্বাস (৪৫)।
পুলিশের অনুমান, ঘটনার পিছনে রয়েছেন ওই পরিবারের পরিচিতরাই৷ কাজে লাগানো হয়েছে পেশাদার খুনিদের৷ কিন্তু পর পর চারজনকে কীভাবে খুন করা হল, কোনওভাবে তা কারও নজরে এল না তা নিয়ে সংশয় কাটেনি৷ মনে করা হচ্ছে, প্রথমে আয়া ও পরিচারিকাকে খুনের পর মা ও ছেলেকে খুন করা হয়৷ দেহগুলির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এখনও হাতে না এলেও পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, মৃতেরা মৃত্যুর আগে কী খেয়েছিলেন বা  খুনের আগে তাদের মাদক জাতীয় কিছু খাওয়ানো বা অচেতন করার জন্য কিছু রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা ?
মৃত গৌরীদেবীর হাতের গয়না ছিল অক্ষত৷ লুঠপাটের জন্য খুন নয় বলে পুলিশের অনুমান হলেও সংশয় এখনও কাটেনি৷ কারণ, দোতলার যে ঘরে মা ও ছেলের দেহ পড়েছিল সেই ঘরের কাঠের আলমারির পাল্লা ছিল খোলা৷ সেখান থেকে কিছু চুরি গিয়েছে কিনা এখনও জানা যায়নি৷ 


No comments:

Post a Comment