মুন্না ঢালির দেরিতে অফিস পৌঁছনোর সূত্র ধরেই বেহালাকাণ্ডের রহস্যভেদ করল গোয়েন্দারা৷ বেহালায় ভট্টাচার্য পরিবারে চারজনের খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমে পুলিশ মনে করেছিল, অত্যন্ত পেশাদারি কায়দায় সূত্র না রেখে চারজনকে খুন করা হয়েছে৷ নিহত গৌরীদেবীর ঘরের কাঠের আলমারির দরজা খোলা দেখে প্রাথমিকভাবে পুলিশের সন্দেহ হয়, কিছু লুঠের উদ্দেশেই হয়তো খুন করা হয়েছে৷ কিন্তু, গৌরীদেবীর হাতে সোনার চুড়ি আততায়ীরা নিয়ে যায়নি দেখে খুনের উদ্দেশ্য নিয়ে ধন্দে পড়ে যান গোয়েন্দারা৷
প্রশ্ন ওঠে, লুঠই যদি উদ্দেশ্য হবে, তাহলে সোনার চুরি কেন নিয়ে গেলেন না খুনিরা? তাহলে কী তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতেই আলমারির পাল্লা খোলা রেখে যায় দুষ্কৃতিরা?
২৪ ঘন্টা তদন্ত চালানোর পর গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন নির্দিষ্ট কিছু লুঠের উদ্দেশেই হানা দিয়েছিল খুনিরা৷ এবং সেই জিনিস ছিল গৌরীদেবীর ঘরের ওই কাঠের আলমারিতেই৷ ভট্টাচার্য পরিবারের পরিচিত খুনী তা জানত৷
প্রশ্ন ওঠে, লুঠই যদি উদ্দেশ্য হবে, তাহলে সোনার চুরি কেন নিয়ে গেলেন না খুনিরা? তাহলে কী তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতেই আলমারির পাল্লা খোলা রেখে যায় দুষ্কৃতিরা?
২৪ ঘন্টা তদন্ত চালানোর পর গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন নির্দিষ্ট কিছু লুঠের উদ্দেশেই হানা দিয়েছিল খুনিরা৷ এবং সেই জিনিস ছিল গৌরীদেবীর ঘরের ওই কাঠের আলমারিতেই৷ ভট্টাচার্য পরিবারের পরিচিত খুনী তা জানত৷
খুনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসার পরই গোয়েন্দারা বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেন৷ কাদের যাতায়াত ছিল দোতলার ঘরে? কারা জানত দোতলার কাঠের আলমারিতে টাকা থাকে?
এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রথমেই আটক করা হয় গৌরীদেবীর আয়া সন্ধ্যা গোস্বামী এবং তাঁর এক পরিচিত যুবক শঙ্কর সিংহকে৷ পাশাপাশি, জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় হয় গৌরীদেবীর জামাই বুদ্ধদেব মুখোপাধ্যায় এবং নাতনি দেবযানীকে৷ কিন্তু, তাঁদের জেরা করে কোনও সমাধান সূত্রে পৌঁছতে পারেননি গোয়েন্দারা৷ এরপর শুক্রবার বিকেল থেকে ভট্টাচার্য পরিবারের কেবল সংস্থার কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন গোয়েন্দারা৷ সেখানেই মেলে সাফল্য৷ সন্দেহের ঘেরাটোপে বাঁধা পড়েন মুন্না ঢালি৷
গোয়েন্দাদের নজরে আসে যে প্রত্যেকদিন যে সময়ে মুন্না কেবল অফিসে আসতেন, ঘটনার দিন অর্থাত্ বৃহস্পতিবার দুই থেকে আড়াই ঘন্টা পরে অফিসে পৌঁছোয়৷
মুন্নার বিলম্বের ওই সময়েই ৪ জনের খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ময়নাতদন্তে ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জেনেছিলেন গোয়েন্দারা৷ তাই মুন্নার প্রতি তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়৷ তদন্তে নেমে মৃতদের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট থেকে পুলিশ জানতে পারে, মৃতদের কারুর পেটেই খাবার পাওয়া যায়নি৷ এরথেকে অনুমান করা হয় যে, পুরো হত্যাকাণ্ডটি দুপুরে ঘটেছে৷ পুলিশ আরও জানতে পারে, দীপকবাবুর কেবল অফিসের কর্মী মুন্না ঘটনার দিন নির্ধারিত সময় ১২ টায় কাজে যোগ দেয়নি।৷ ঘটনার দিন দুপুর ২ টোর পর কাজে আসে৷ এই সূত্র ধরেই পুলিশ মুন্নাকে জেরা করে৷ পুলিশের জেরায় অবশেষে মুন্না খুনের কথা স্বীকার করে বলে জানা গেছে৷
মুন্না সপ্তাহে ৩-৪ বার ভট্টাচার্য বাড়িতে যেতেন কেবল ব্যবসা থেকে সংগৃহীত টাকা গৌরীদেবীকে দিতে৷ গোয়েন্দাদের কাছে মুন্না কাজে দেরিতে আসার যে ব্যাখ্যা দেন, তা খতিয়ে দেখে গোয়েন্দারা বুঝতে পারেন, মুন্না মিথ্যে কথা বলছে৷ মুন্নার মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন দেখেও বৃহস্পতিবার তিনি ওই সময়ে প্যারিস পাড়াতে ছিল বলেই জানতে পারেন গোয়েন্দারা৷ তারপর আর দেরি করেননি তদন্তকারীরা৷
শনিবার দুপুরবেলাই মুন্নাকে আটক করেন গোয়েন্দারা৷ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় বাকিদের নাম৷ তাদেরও নজরবন্দী করে রাখেন গোয়েন্দারা৷ শনিবার বেশি রাতে অভিযান চালিয়ে একে একে ওই ৩ জনকেও গ্রেফতার করা হয়৷
জেরায় মুন্না জানায়, দীপকবাবু মানসিক অবসাদগ্রস্ত হওয়ার তাঁর মা গৌরীদেবীই কেবলের ব্যবসা থেকে আদায় হওয়া টাকা নিতেন৷ আদায়ের টাকা গৌরীদেবী দোতলার কাঠের আলমারিতেই রাখতে বলতেন৷ সেই টাকা ব্যাঙ্কে জমাও দিতে যেত মুন্না-সহ সংস্থার আরও ৩-৪ জন কর্মী৷ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন গৌরীদেবী৷ ফলে, আদায় হওয়া মোটা টাকা বাড়িতে আছে বলেই ধরে নেয় মুন্না৷ এরপরই খুন করে লুঠের ছক কষে সে৷
এভাবেই ধাপে ধাপে এই রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের কিনারা করেছেন গোয়েন্দারা৷ ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে পাওয়ার পর গোয়েন্দারা ঘটনাস্থলে তাঁদের নিয়ে গিয়ে ঘটনাটির পূননির্মাণ করাবেন বলে খবর৷ কোথায় রয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র, তাও দেখা হবে৷

No comments:
Post a Comment