Wednesday, 8 August 2012

'যে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুত্ নেই, সেখানে প্রতিটি ঘরে মোবাইল অপ্রয়োজনীয়'


নয়াদিল্লি: স্বাধীনতা দিবসের উপহার!দারিদ্র্যসীমার নিচে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের জন্য নয়া প্রকল্প আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ বিপিএল তালিকাভুক্তদের মোবাইল ফোন দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্র৷ পাশাপাশি, ২০০ মিনিটের ফ্রি লোকাল কলও দেওয়া হতে পারে তাঁদের৷ ১৫ অগাস্ট লালকেল্লা থেকে নয়া এই প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ৷ 
তবে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এখন না না ধরণের প্রকল্পের উপহার দিচ্ছে জনসাধরাণকে।দ্রারিদ্র্যসীমার নীচে যেসমস্ত পরিবার আছে তাঁদের প্রতিটি পরিবারকে মোবাইল উপহার দেওয়া এরই অন্যতম উদ্যোগ।প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে 'হার হাত মে মোবাইল'।এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হবে অসংখ্য মানুষ।তবে এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে ইউপিএ সরকারের প্রায় হাজার কোটি টাকা খরচ হবে।এই ব্যয়ের জন্য বিরোধীদের সমালোচনার ও আপত্তির সম্মুখীনও হতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে,ধারণা রাজনৈতিক মহলের।বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য,এইমুহূর্তে মোবাইল না দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী মানুষদের খাবার দরকার।
বিজেপি নেতা বলবীর পুঞ্জ এবিষয় জানিয়েছেন,যে দেশের প্রতিটি ঘরে এখনও বিদ্যুত্ই পৌঁছোয়নি,সেখানে মোবাইল পরিষেবা অপ্রয়োজনীয়।বিদ্যুত্ না থাকলে, সাধারণ মানুষ মোবাইলে চার্জ দেবে কিভাবে? যে দেশের সরকার অপরাধকে দমন করতে পারে না,সেখানে এমন একটি প্রকল্প অপরাধকে আরও বাড়িয়ে দেবে।এই ধরণের প্রকল্পের ঘোষণা, শুধুমাত্র রাজনৈতিক চমক ছাড়া আর কিছুই না।বাস্তব থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সরানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমান যুগে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সর্বত্র।অস্বীকার করার উপায় নেই মোবাইলের ব্যবহারের মাধ্যমেই একজন প্রত্যন্ত এলাকায় থেকেও তাঁর পরিবারের লোকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে।কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবে রূপান্তরিত হলে, এই পরিষেবাকে কেন্দ্র করে অনৈতিক কাজও শুরু হয়ে যেতে পারে।সেই অনৈতিক কাজকর্মকে আটকানোর মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো সরকারে কাছে আছে কী?
এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু দরিদ্রদেরই উপকার হবে এমন নয়,উপকৃত হবে টেলিকম সংস্থাগুলোও।বৃদ্ধি পাবে দেশের জিডিপি।অপরদিকে মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমে ইউপিএ সরকারও দেশের গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবহেলিত ভোটদাতাদের সমস্যা সম্পর্কেও জানতে পারবেন।এক সূত্রের তরফে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এবিষয় প্ল্যানিং কমিশন এবং টেলিকম মন্ত্রকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।খুব তাড়াতাড়িই সাত হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

No comments:

Post a Comment